
বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম বড় শিরোপা এসেছিল নারী দলের হাত ধরে। ২০১৮ সালে সালমা খাতুনের নেতৃত্বে এশিয়া কাপ জয়ের পর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছিল। কিন্তু সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি দল।
সাত বছর আগে ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জয়ের স্মৃতি এখনো টাটকা অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির মনে।
মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ২০১৮ সালের পর নারী ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন এসেছিল। কিন্তু কোভিড আমাদের অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ম্যাচ কম খেলায় উন্নতির ধারায় ভাটা পড়ে। গণমাধ্যমের মনোযোগ কমে যাওয়াও একটি কারণ।
আরও পড়ুন
» হাসলো না কোহলির ব্যাট, জিততে পারলো না বেঙ্গালুরু
» কোপা দেল রে’র ফাইনালে বার্সা-রিয়াল, ম্যাচ কবে?
এরপর বাংলাদেশ নারী দলের পারফরম্যান্স নিম্নমুখী হতে শুরু করে। ২০২০ ও ২০২৩ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি দল। ২০২২ সালে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেললেও ৮ দলের মধ্যে সপ্তম হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে বাংলাদেশ।
২০২২ সালের পর থেকে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। নারী ওয়ানডে চ্যাম্পিয়নশিপে টেবিলের সাত নম্বরে থেকে শেষ করে দল। বিশেষ করে ব্যাটিং দুর্বলতা ছিল মূল সমস্যা। ফলে ২০২৫ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে, এখন মূলপর্বে যেতে হলে বাছাইপর্ব পার হতে হবে।
জ্যোতির ভাষায়, নিয়মিত বড় প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পেলে হয়তো আমাদের অবস্থা ভালো থাকত। তবে এখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য কঠোর প্রস্তুতি
পুরুষ দলের ক্রিকেটাররা ঈদের ছুটিতে থাকলেও নারী দলকে মাঠে থাকতে হয়েছে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রস্তুতির জন্য। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টানা অনুশীলন করেছে তারা।
জ্যোতি বলেন, বাছাইপর্বটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপে খেলা শুধু সম্মানের ব্যাপারই নয়, এটি আর্থিকভাবেও লাভজনক। গত বিশ্বকাপের পর আমরা এফটিপিতে ঢুকেছি, যা আমাদের ক্রিকেটের পরিধি আরও বাড়িয়েছে।
বাছাইপর্বে বাংলাদেশ লড়বে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, থাইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়াম ও এলসিসিএ গ্রাউন্ডে হবে ম্যাচগুলো। দলের বর্তমান কোচ ডেভিড হেম্প পাকিস্তানের কন্ডিশন ভালো বোঝেন, যা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
শুক্রবার সকাল ১০টায় পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে বাংলাদেশ নারী দল। এ বছরের অক্টোবরেই ভারতে শুরু হবে নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ, যেখানে সরাসরি খেলার সুযোগ পেয়েছে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। বাছাইপর্ব থেকে আরও দুটি দল মূলপর্বে জায়গা করে নেবে, যেখানে জায়গা করে নিতে মরিয়া জ্যোতির দল।
ক্রিফোস্পোর্টস/৩এপ্রিল২৫/এসএ
