
বাংলাদেশের তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। চট্টগ্রামে গত বছরের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে নাটকীয়ভাবে অভিষেক হয় মাহিদুলের। চোটের কারণে জাকের আলী ছিটকে গেলে এবং প্রথম পছন্দের উইকেটকিপার লিটন দাস অসুস্থ থাকায় হঠাৎ করেই সুযোগ পান তিনি।
তড়িঘড়ি করে জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে হয় তাকে, কারণ জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) ঢাকার হয়ে বিকেএসপি-৪ এ চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু খেলা শুরুর আগেই তাকে উড়িয়ে নেওয়া হয় চট্টগ্রামে।
পরদিনই অভিষেক ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি, যদিও সেই অভিজ্ঞতা হয়তো ভুলে যেতে চাইবেন। প্রথম ইনিংসে শূন্য রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ রানের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও কিছু ভুল করেছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
» ২০৩৫ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের নাম ঘোষণা করল ফিফা
» আইসিসি নারী বিশ্বকাপ বাছাই : আম্পায়ার তালিকায় দুই বাংলাদেশি
আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে তার নাম আবার আলোচনায় এসেছে, কারণ লিটন দাস পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে যাওয়ায় জাতীয় দলে জায়গা খালি হয়েছে। তবে এবার তিনি আরও ভালোভাবে প্রস্তুত বলে মনে করছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অভিষেক টেস্টের অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জের জন্য আরও দৃঢ় করেছে বলে ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি। মাহিদুল বলেন, কোনো অজুহাত দিতে চাই না, কারণ তখন আমি খেলার মধ্যে ছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আমার মন তখনও এনসিএল ম্যাচেই ছিল। এখন বুঝতে পারছি, পরেরবার সুযোগ পেলে মানসিকভাবে আরও শক্ত থাকতে হবে।
তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার বলেন, সম্ভবত তখন কিছুটা নার্ভাস ছিলাম, আর সেটা লুকানোর জন্য উইকেটের পেছনে বাড়তি উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। এখন উপলব্ধি করছি, আসল ব্যাপার হলো খেলাটা উপভোগ করা। প্রথম টেস্ট অতীত হয়ে গেছে। প্রথম ইনিংসে দ্রুত আউট হয়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে না পারার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক কিছু শিখেছি।
তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত, ক্রিকেট হলো ব্যাট-বলের খেলা। আসল চ্যালেঞ্জ হলো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। আমি এখন বেশ আত্মবিশ্বাসী এবং নিজের দুর্বলতাগুলোর ওপর কাজ করছি, যাতে ভবিষ্যতে ভালো পারফর্ম করতে পারি।
এদিকে, জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের উপস্থিতি তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে বলে মনে করেন তিনি। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন বলেন, তিনি (সালাহউদ্দিন) আমাকে ভালোভাবে চেনেন এবং সবসময় দারুণ পরামর্শ দেন। যখনই অতিরিক্ত চিন্তায় পড়ে যাই, তিনি আমাকে স্বস্তি দিতে পারেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে তার অধীনে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে এটা জানি।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে আগামী ১৫ এপ্রিল ঢাকায় পা রাখবে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ২০ এপ্রিল শুরু হবে প্রথম টেস্ট ম্যাচ।
ক্রিফোস্পোর্টস/৪এপ্রিল২৫/এসএ
